মেহেন্দিগঞ্জে সোর্স সন্দেহে মেম্বারের স্বামীকে মারধর। ইউএনও বরাবর অভিযোগ!
-
আপডেট সময় :
মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২
-
১৭৩
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

রাজিব তাজ //
মেহেন্দিগঞ্জের দরিচর খাজুরিয়া ইউনিয়নে সোর্স সন্দেহে ১,২,৩ নং সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার পাখি বেগম’র স্বামী মোঃ শহিদুল ইসলাম শিকদার কে নদীর পারে ফেলে বেধড়ক মারধর ও লাঠিপেটা করেন স্থানীয় জেলে মাসুদ কাজী, মনির কাজী, শামীম কাজি নামক তিন ভাই।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় যে, মা ইলিশ রক্ষার ক্ষেত্রে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, মহিলা মেম্বার, গ্রাম চৌকিদার সহ সবাইকে সচেতন থাকার জন্য বলেছেন এবং কেউ যেনো এ সময়ে নদীতে নেমে মা ইলিশ এর ক্ষতি না করে, সে ব্যাপারে সবাইকে সোচ্চার থাকতে বলেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় মেম্বার পাখি বেগম প্রতিদিন তার স্বামী মোঃ শহিদুল ইসলাম শিকদার কে সাথে করে নিয়ে এসে নদীর পারে বসে থাকে, কেউ যেনো নদীতে মাছ ধরতে নামতে না পারে, কিন্তু সবার অগোচরে মাসুদ কাজী ট্রলার নিয়ে গতো ১০ তারিখ নদীতে মাছ ধরতে যায়, বেলা ১২ টার দিকে নৌপুলিশ নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় টহল দেওয়া অবস্থায় থাকা কালীন সময়ে মাসুদ কাজীর ট্রলার জব্দ করে, এবং জাল ও ট্রলার জব্দ করে জাল নিয়ে যায়, আর ট্রলার ফুটো করে দেয়, যাতে পরবর্তীতে আর মাছ ধরতে না পারে, কিন্তু এখানেই ঘটনার চিত্র পাল্টে গেলো, মাসুদ কাজির ধারনা, মাসুদ কাজী ট্রলার নিয়ে নদীতে আসার কারনে পাখি মেম্বার এর স্বামী মোঃ শহিদুল ইসলাম শিকদার নৌপুলিশ কে ফোন দিয়ে তথ্য দেয়, যার ফলে তাদের আটক করা হয়, এবং ট্রলার ফুটো করা হয়, এই সূত্রেই মাসুদ কাজী, তার দুই ভাই, মনির কাজী, শামীম কাজী পাখি মেম্বার এর স্বামী মোঃ শহিদুল ইসলাম শিকদার কে দোকানে বসা দেখে পেছন থেকে এসেই এলোপাতাড়ি কিল ঘুসি মারতে শুরু করেন, এবং এক পর্যায়ে মাসুদ কাজী দৌড়ে গিয়ে লাঠি এনে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে, এক পর্যায়ে দোকানে বসে থাকা অন্যান্য লোকজন এসে মাসুদ, মনির ও শামিম কে দূরে সরিয়ে দেয়, এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এখানেই ক্ষান্ত হন নি মাসুদ কাজী ও তার ভাইরা, পাখি মেম্বার ও তার ছেলে (রায়হান-১৬) আসলে তাদের উপরেও ক্ষিপ্ত হন, পাখি মেম্বার এর ছেলেকে মারধর করেন, এবং পাখি মেম্বার’র দিকে তেড়ে আসেন তার উপর হামলা করার উদ্দেশ্যে, কিন্তু ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন তাদের দূরে সরিয়ে দেয়।
স্থানীয় দোকানদার কামাল খা’র সাথে কথা বলার সময় তিনি জানান, গতো ১০ তারিখ ১২ টার দিকে আমার দোকানে বসা ছিলো পাখি মেম্বার’র স্বামী মোঃ শহিদুল ইসলাম শিকদার, কিন্তু কোন কথাবার্তা ছাড়াই মাসুদ কাজী, মনির কাজী, শামীম কাজী তারা শহিদুল ইসলাম শিকদার কে মারতে শুরু করে, পরবর্তীতে একটা লাঠি দিয়ে মারতে থাকে মাসুদ কাজী, কারন জানতে চাইলে বলেন, কোন কারন ছাড়াই মারছে, কিন্তু পরে শুনলাম, সোর্স সন্দেহে মারছে, একই কথা বলছেন, মনির খা, ইমরান খা নামের স্থানীয় লোকজন। তবে হরহামেশাই মাছ ধরার কারনে পাখি মেম্বার এর স্বামী সবাইকে মাছ ধরতে নিষেধ করেছেন, সবাই বিষয় টি মানলেও মানছে না মাসুদ কাজী সহ তারা তিন ভাই।
পরবর্তীতে মেম্বার পাখি বেগম ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে যায়, এবং পরিস্থিতি দেখে শান্ত দেখে পরক্ষনেই মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুননবী’র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, এছাড়াও মেহেন্দিগঞ্জ মৎস্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন’র কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে মেম্বার পাখি বেগম বলেন, ইউএনও স্যারে আমাদের সবাইকে বলে দিয়েছে৷ একালায় যাতে কেউ মাছ ধরতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে ও হুশিয়ারি প্রদান করতে, সেজন্য আমি মহিলা মানুষ, একা যাতায়াত সম্ভব না বলে, আমার স্বামী কে নিয়ে সব জায়গায় গিয়ে বলে আসি, কিন্তু এখন দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে আমার স্বামী মাইর খাইছে, আমি লিখিত অভিযোগ দিলাম, কিন্তু এখনও কোন সুরাহা পেলাম না, বিষয় টা খুবই দুঃখজনক।
তবে ভুক্তভোগী মোঃ শহিদুল ইসলাম শিকদার বলেন, আমি অন্যদিন সবাইকে নিষেধ করি, নদীতে মাছ ধরতে যেনো না যায়, কিন্তু সেদিন আমি এসে দোকানে বসছি মাত্র, কিছুক্ষণ পরেই আমার উপর এই হামলা, আমি এখন সমাজের দ্বায়বদ্ধতা পালন করতে গিয়ে জেলেদের হামলার মুখোমুখি হয়েছি, আমার স্ত্রী লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ইউএনও বরাবর , আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই, না হলে দেশের জন্য সরকারের জন্য কেউই নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসবে না কাজ করতে।
এ ব্যাপারে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুননবী বলেন, আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে, তবে এমন ঘটনার জন্য আমি দুঃখপ্রকাশ করছি, আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে, এবং দরিচর খাজুরিয়া অলরেডি ক্যাম্প একটা রয়েছে, প্রশাসন যথেষ্ট তৎপর।
Like this:
Like Loading...
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply