কুয়াকাটা চৌরাস্তার সড়ক যেন পর্যটকদের গলার কাঁটাঃ – যত্রতত্র যানবাহন রাখায় বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা!
-
আপডেট সময় :
বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ, ২০২২
-
২০২
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুয়াকাটা-কলাপাড়াঃ
কুয়াকাটা চৌরাস্তায় যানজট নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের নেই কোনো উদ্যেগ! পর্যটক ও স্থানীয় পথচারীদের চলাচলের ভোগান্তি নিরসনে কুয়াকাটা চৌরাস্তায় সপ্তাহে তিনদিন যানবাহন না রাখার দাবী তুলেছে এলাকাবাসী এবং পর্যটকরা।
নাম প্রকাশের শর্তে কুয়াকাটা আগত এক পর্যটক বলেন, কোন্ কালো শক্তির প্রভাবে কুয়াকাটা চৌরাস্তায় বাস রাখা হয় পর্যটকদের চরম ভোগান্তির মধ্যেও? গুরুত্বপূর্ণ কুয়াকাটা পৌর শহরের দীর্ঘ এক কিলোমিটার বহুবছর যানজটের জন্য কারা দায়ী?
কুয়াকাটা পৌরসভা কতৃপক্ষ যানজট নিরসনের উদ্যেগ নিলেও এমন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের তেমন কোনো
কার্যকরীতা মেলেনি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। কুয়াকাটা চৌরাস্তা জিরো পয়েন্ট এলাকায় বাস না রেখে একমাত্র সৈকত প্রবেশদ্বার সড়ক ফাঁকা রাখতে কুয়াকাটা পৌরসভার এমন নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে বাস রাখা অব্যাহত রেখেছে যান শ্রমিকরা এমটি জানান ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী মোঃ সাত্তার পহলান।
কুয়াকাটা ক্ষুদ্র পর্যটন ব্যাবসায়ী জামাল (৩০) বলেন, কুয়াকাটা চৌরাস্তা জিরো পয়েন্ট এলাকায় বাস রাখার কবলে ব্যস্ত সড়কের চরম বিপাকে প্রতিনিয়ত বাড়ছে অতিরিক্ত সড়ক দূর্ঘটনা এবং চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। তবে স্থানীয়দের অনেকের দাবী, কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম এই পর্যটক সমাগমের – সপ্তাহের বিশেষ দিনগুলোতে সৈকতের প্রবেশপথে যেন কোনোপ্রকার বাস না রাখা হয় এবং বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ঘোরানো না হয়। ব্যাবসায়ীরা জোর অনুরোধ করে বলেন সপ্তাহে তিনদিন কুয়াকাটা তুলাতলী এলাকায় যে ফাঁকা সড়ক রয়েছে সেখানে বাস রাখা হয় যা নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে নির্ধারিত সময়ানুযায়ী একটি করে পরিবহন বাস এবং লোকাল বাস কুয়াকাটা কাউন্টারে গিয়ে যাত্রী নিয়ে রওনা হয়। কুয়াকাটা চৌরাস্তার এমন আশানুরূপ জণভোগান্তি নিরসনের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে সুদৃষ্টি কামনা করেন পর্যটন নগরীতে আগত পর্যটকসহ এলাকার বাসিন্দারা।
তবে এলাকাবাসীর ধারণা, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল যেটি দীর্ঘ বছরের; এমন নজিরবিহীন সমস্যার লাগব না হওয়ার পেছনে কাজ করছে হয়তো কোনো অপশক্তির প্রভাব! কুয়াকাটা পর্যটন নগরীর আধুনিকায়নে প্রধান বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে যানজট। এতে করে পর্যটন নগরীর মান ক্ষুন্ন হচ্ছে পর্যটকদের কাছে – যার প্রভাব পরেছে দেশের পর্যটন শিল্পের মানোন্নয়নে এবং ব্যহত হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতির!
একই কথা বরিশাল (বি.এম) কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মনির আহসান প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের দায়িত্বশীলদের অব্যাবস্থাপনটিই আমরা দায়ী করবো এখানে। তিনি পর্যটন নগরীর বিষয়টি সামনে রেখে পর্যটন সংশ্লিষ্টসহ স্থানীয় সুশীলদের এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে গভীর দৃষ্টিপাত দিতে উল্লেখ করে বলেন, একটি পর্যটক স্পটের স্বাস্থকর শৃঙ্খল পরিবেশে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভ্রমনের জন্য উৎসাহের যোগান দেয় – কিন্তু তেমনি একই স্থানের অস্বাস্থ্যকর বিশৃঙ্খল পরিবেশ মানুষের ভ্রমনের মানসিকতা হাড়িয়ে ফেলে অব্যাবস্থাপনার ফলে। এতে করে স্থানীয় পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত সাধারণ পেশা শ্রেনীর মানুষের যে উপার্জনের পথ তা বিশাল হুমকির মুখে রয়েছে। ঐ শিক্ষার্থী বলেন (কুয়াকাটা এলাকার বাসিন্দা), স্থানীয় পেশাজীবীদের নির্ভর করতে হয় একমাত্র পর্যটক আগমনকে কেন্দ্র করে। কিন্তু বর্তমানে পর্যটকরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের প্রধান প্রবেশ দ্বার বেড়িবাঁধ সড়কের জিরো পয়েন্টে যত্রতত্র যানবাহন রাখার ফলে! সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে প্রশংসিত সেখানে কুয়াকাটা পৌরসভা গঠনের একযুগ পদার্পণ হলেও আমরা সমুদ্র সৈকতে প্রবেশ পথটিকে পরিবেশ বান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেখছি না। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সরকারের সদিচ্ছা এবং জনগণের বিশদতার মাধ্যমে সম্ভব এটি পরিবর্তনের। মনির আহসান আরো জানান পর্যটকদের জন্য উপযোগী ও মানসম্মত একটি সুন্দর ভ্রমন স্পষ্ট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং সকল পর্যায়ের মানুষের ওতপ্রোতভাবে সহযোগীতায় দীর্ঘ বছরের এমন সংকট থেকে উঠে আসা সম্ভব।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভাধীন পর্যটন কেন্দ্রটি দক্ষিনাঞ্চলের প্রকৃতিমাখা নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি; একই স্থানে দাড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত। এখানে বছরের সব ঋতুতেই কমবেশি পর্যটকদের সমাগম থাকে। বিশেষ করে বছরের শুরু ও শেষের দিকে পর্যটকদের তুলনামূলকভাবে সমাগম হয়। তবে অতীতের তুলনায় বছরে কম বেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সমাগম থাকেই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। কুয়াকাটা বিভিন্ন শ্রেনীর দেশি-বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। দিন দিন পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। পর্যটকদের সেবার মান নিশ্চিতে প্রশাসন নানামুখী ভূমিকা রাখছে পর্যটন শিল্পের সমৃদ্ধির স্বার্থে। কিন্তু তারমধ্যেও কুয়াকাটা পৌরসভা কতৃপক্ষ পৌরসভা গঠনের একযুগেও স্থাপন করতে পারেনি কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। তবে বর্তমান কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মানের কাজ চলমান রয়েছে যা চলমান বছরই শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছে কুয়াকাটা পৌর কতৃপক্ষ। তবুও যেন বর্তমান গলার কাটা নামেনি আগত পর্যটক-দর্শনার্থী এবং স্থানীয়দের! গুরুত্বপূর্ণ কুয়াকাটা ব্যস্ত সড়ক পারি দিয়ে হাজার হাজার পর্যটক-দর্শনার্থীসহ আশেপাশের এলাকার ভ্রমণ পিপাসুরা সপ্তাহে সরকারি ছুটিরসহ প্রতিদিন কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ছুটে আসে ভ্রমণ পিপাসা মেটাতে। কিন্তু তারা কি পারছেন সাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ উপভোগ করতে এমন প্রশ্ন তুলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমাম হাসান।
চলমান যানজটের অতিরিক্ত ভোগান্তির বিষয়ে পর্যটক ও স্থানীয়রা মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতায় এমন সড়ক নৈরাজ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে চৌরাস্তায় দুপাশে সারিবদ্ধ বিভিন্ন যানবাহন রাখাসহ স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা সড়কের উপরে নানা আসবাপত্র রেখে করছে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা! সড়কের এমন সংকীর্ণতার মধ্যে পর্যটক ও স্থানীয়দের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরে!
কুয়াকাটায় হাজার হাজার পর্যটক সমাগমের বিশেষ দিনগুলোতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। বৃহস্পতি-শুক্র ও শনিবার ঘটে থাকে এই যানজট। সপ্তাহে তিনদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লেগেই থাকে যানযট; জণদূর্ভোগে যেন এটি সীমাহীন বেকায়দা। এতে করে ঐ তিনদিনে সড়কের এহেন অবস্থার মধ্যে স্থানীয় ও পর্যটকদের পরতে হয় সময়ের বিড়ম্বনায় – যার নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে সরকারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি। একদিকে চৌরাস্তা জিরো পয়েন্ট এলাকায় প্রচুর পর্যটক ও স্থানীয়দের পদচারণে যেখানে সড়কের সামান্য ফাঁকা অংশে গাঘেঁষাঘেষী করে চলতে হয়! আবার তা বিশৃঙ্খল কুয়াকাটা বেড়ীবাঁধ সড়কের দুপাশের ধুলোবালির মধ্যে; অন্যদিকে বিভিন্ন যানবাহনে তৈরি করছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ যা পর্যটন নগরী হিসেবে বহুলাংশে বেমানান। পর্যটন সংশ্লিষ্ট এবং স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বরত যাঁরা রয়েছেন বিষয়টিকে প্রাধান্য না দেওয়ার ফলে এমন জন ভোগান্তির; বর্তমান যে গতি রয়েছে তা থেকে কোনোক্রমেই পর্যটন শিল্পের সংশ্লিষ্ট এবং কুয়াকাটা পৌরসভার কর্তব্যরতদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই এমনটাই মন্তব্য করেন ‘কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’র কার্যকরী সদস্য – মোঃ আমির হোসাইন।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার জানিয়েছেন চলতি বছরের আগামী জুন মাসে কুয়াকাটা সৈকতে প্রবেশ এলাকার সড়কের রাখা যানবাহন নির্দিষ্ট কুয়াকাটা বাস টার্মিনালে সড়িয়ে নেয়া হবে।
Like this:
Like Loading...
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply