কুয়াকাটা অপার সম্ভাবনায় পর্যটন শিল্পে ব্যাপক বিস্তৃতি রয়েছেঃ বিভাগীয় কমিশনার – রাখাইন সম্প্রদায়ের টং ঘর পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।
-
আপডেট সময় :
শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
-
২২৬
০ বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

আব্দুল কাইয়ুম,
কুয়াকাটা প্রতিনিধিঃ
রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রতিটি পাড়ায় একটি করে কমিউনিটি ভবনের বিশেষ আবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আমিনুল আহসান মহোদয় এসময় তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে রাখাইন সম্প্রদায়ের মাঝে ১লাখ টাকা অনুদান বিতরণ করেন।

পর্যটক দর্শনীয় স্থান কুয়াকাটার গোড়া আমখোলাপাড়ায় (১৮ ফেব্রুয়ারী) শুক্রবার রাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা আওতায় ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জন্য (রাখাইন সম্প্রদায়) শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল, শিক্ষাবৃত্তি ও রাখাইন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ বয়স্কদের মাঝে কম্বল বিতরণ এবং মুজিববর্ষে নির্মিত রাখাইন টোং ঘর পরিদর্শন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

মুজিববর্ষে নির্মিত রাখাইন টংঘর পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আমিনুল আহসান মহোদয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রতি উপলক্ষ করে বলেন, প্রত্যেক ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তা অব্যাহত রয়েছে।
আমাদের বারবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, সেটা আপনারা খুঁজে বের করুন (নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর) যে কোথায় কি দরকার। আপনাদের (নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী) চাহিদার কথা উল্লেখ করবেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসকের মাধ্যমে। তা আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরব। বর্তমান সরকার ব্রতী – সরকার খুবই আন্তরিক।
রাখাইন নেতা মংচোঁ’র এক উক্তির প্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনার উল্লেখ করে বলেন, আজকের এই ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী (রাখাইন সম্প্রদায়) ভালো আছে; যেটা আপনারা নিজেরাই বলেছেন। তিনি পর্যটন কেন্দ্রকে উপলক্ষ করে আরো বলেন, কুয়াকাটা অপার সম্ভাবনা পর্যটন খাতে তা ব্যাপক বিস্তৃতি রয়েছে। পটুয়াখালী জেলার যে সকল ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী (রাখাইন সম্প্রদায়) রয়েছে তাদের ভয়ের কিছু নেই এবং আপনারা ভালো থাকবেন। আমাদের সরকার সবসময় আপনাদের সহযোগিতা করছে এবং আমরা আপনাদের সাথেই রয়েছি।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব, আবু হাসনাত মোঃ শহিদুল হক।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব, মোঃ কামাল হোসেন, মাননীয় জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী। জনাব নিউ নিউ খেইন, সভাপতি – বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা।

রাখাইন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ১০টি বাইসাইকেল, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে দশজনকে ৬হাজার ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশজনকে চব্বিশশত টাকা এবং চল্লিশজন রাখাইন সম্প্রদায়ের বয়স্কদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
জানা যায়, মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলায় ২৬টি রাখাইন সম্প্রদায় পাড়ায় চল্লিশটি টং ঘর বরাদ্দ পেয়েছে। তারা উপজেলার মধ্যে আরো চল্লিশটি ঘর পাওয়ার জন্য আজ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করেন। পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলায় তিনটি নৃ-তাত্বিক গোষ্ঠী (রাখাইন সম্প্রদায়) পাড়া রয়েছে। ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক গোষ্ঠী প্রতিবছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবৃত্তি অনুদান পান তারা। তারা নৃ-তাত্বিক গোষ্ঠীর (রাখাইন সম্প্রদায়) প্রতিটি পাড়ায় একটি করে কমিউনিটি ভবনের বিশেষ আবেদন করেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন, ৭নং লতাচাপলী (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব, আনসার উদ্দিন মোল্লা।
বিশেষ উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকরা।
সভার সঞ্চালন করেন রাখাইন নেতা মং চোঁ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন কুয়াকাটা শিল্পীগোষ্ঠীর হোসাইন আমির প্রমুখ।
Like this:
Like Loading...
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Leave a Reply