নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এক এক করে টানা ৬ দিন অতিবাহিত হলেও খোজ মিলেনি নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা গৃহবধু জান্নাতির। যদিও প্রশাসনের দাবী, তারা প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযোগের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।সরজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়,বরিশাল বন্দর থানাধীন চরকাউয়া নিবাসী চাঁন মিয়া পেশায় একজন নির্মান শ্রমিক।প্রায় ৭ মাস পূর্বে ছোট মেয়ে জান্নাতীকে বিয়ে দেন পার্শ্ববর্তী উপজেলা নলছিটির অধীন দপদপিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আলমগীরের পুত্র রায়হানের সাথে। সেই সময় মেয়ের সুখের কথা ভেবে জান্নাতির গরীব বাবা সুদের বিনিময়ে টাকা সংগ্রহ করে মেয়েকে সংসারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের মাস না পেরোতেই জান্নাতির বাবার বাড়ি থেকে ব্যাবসার কথা বলে ১ লক্ষ টাকা দাবি করে রায়হান। তবে জান্নাতির বাবা তা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে জান্নাতির উপর নেমে আসে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের মানষিক ও শারিরীক নির্যাতন। এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে শালিশ বসলেও বন্ধ হয়নি জান্নাতির উপর শ্বশুর বাড়ির অত্যাচার। এ বিষয়ে জান্নাতির বাবা চাঁন মিয়া বলেন, গত ২'রা আগস্ট সকালে জান্নাতির শ্বশুর বাড়ি থেকে লোকজান আমাদের বাড়ি এসে চিৎকার করে বলে ' তোদের মেয়ে কই? তাদের উত্তরে জানি না বললে তারা আমাকে জানায় যে, জান্নাতি ঘর থেকে টাকা ও স্বর্নালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছে।তাদের এ কথায় আমার সন্দেহ হলে আমি নলছিটি থানায় গিয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করি এবং পারিবারের সবাই মিলে জান্নাতিকে সম্ভব্য সব স্থানে খোঁজ করতে থাকি।কিন্তু আজ ৬ দিন কেটে গেলেও আমার মেয়ের কোন সন্ধান পাচ্ছি না।ও বেঁচে আছে, না মরে গেছে তাও জানতে পারছি না।অপরদিকে জান্নাতি নিখোজের ঘটনায় তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কর্মকাণ্ড রহস্যজনক বলে জানান স্থানীয়রা। জান্নাতি নিখোজের পর সে পরকিয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গেছে বলে প্রচার চালায় তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন।কিন্তু এ ব্যাপারে কিছুই জানে না বলে জানান পরকিয়া প্রেমিক হিসেবে অভিযুক্ত চরকাউয়া খেয়াঘাটের ট্রলার চালক রানা। সে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, আমি বিয়ের পুর্বে জান্নাতির সাথে পরিচয় সুত্র ৫/৬ দিন কথা বলেছি।বিয়ের পর তার সাথে দেখা কিংবা কথা হয়নি।অভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এস,আই,জসিম জানান, জান্নাতি নিখোজের পর তার বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে।প্রযুক্তির সহায়তায় চলমান তদন্ত শীঘ্রই শেষ হবে বলেও আশা করেন তিনি।ভুক্তভোগী জান্নাতির পরিবার যত দ্রুত সম্ভব জান্নাতিকে খুজে পেতে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক : ফয়সাল হাওলাদার।
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস ।। Mehendiganj Times. All rights reserved.