প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২০, ২০২৬, ৭:১৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১০, ২০২১, ৫:২৪ এ.এম
রূপগঞ্জে কারখানায় আগুনে ২ শ্রমিকের মৃত্যু।

অনলাইন ডেস্কঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই নারীসহ তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে দুই নারী এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় অর্ধশতাধিক শ্রমিক দগ্ধ ও আহত হন।
তাদের ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
রাত ২ টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টা চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে আগুন নেভাতে ডেমরা, কাঞ্চনসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।
শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্ণগোপ এলাকার সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড লিমিটেডের কারখানার ছয়তলা ভবনের নিচতলার একটি ফ্লোরে কার্টন থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
একপর্যায়ে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। কালো ধোঁয়ায় কারখানাটি ছেয়ে যায়। একপর্যায়ে শ্রমিকরা ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। আবার কেউ কেউ ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন।
আগুন থেকে বাঁচতে শ্রমিক স্বপ্না রানী (৪৫) ও মিনা আক্তার (৩৩) ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। সিলেট জেলার যতি সরকারের স্ত্রী স্বপ্না ও কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার উত্তরকান্দা এলাকার হারুন মিয়ার স্ত্রী মিনা।
তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শাহাদাত হোসেন।
এ ছাড়া গুরুতর আহতদের অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন পরিবহণে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শ্রমিক মোসালিনের (৩৪) মৃত্যু হয়।
কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড লিমিটেড কারখানায় প্রায় সাত হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। কারখানাটির নিচতলার একটি ফ্লোরে কার্টন ও পলিথিন তৈরি করা হয়। সেখান থেকে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
স্বপ্না রানীর মেয়ে শ্রমিক বিশাখা রানী বলেন, আগুন লাগার খবরে শ্রমিকরা ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। আবার কেউ কেউ ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়তে শুরু করেন।
আমার মা ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা গেছেন। তিনি আরও বলেন, কারখানা ভবনে অনেক শ্রমিক আটকা পড়েন।
আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় চারতলা পর্যন্ত উঠে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সহকর্মীরা উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটকে ভাংচুর করেন।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তারা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকদের অভিযোগ-হাসেম ফুড লিমিটেড কারখানাটির ভবনটি বিল্ডিং কোড না মেনে করা হয়েছে। অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কারখানাটি পরিচালনা করায় এ অগ্নিকাণ্ড।
এ ব্যাপারে ইউএনও শাহ নূসরাত জাহান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। বিল্ডিং কোড না মেনে ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবন তৈরি করা হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল আল আরেফিন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : ফয়সাল হাওলাদার।
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস ।। Mehendiganj Times. All rights reserved.