প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২০, ২০২৬, ৭:০৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৩, ২০২১, ১২:১৫ পি.এম
বিমানবন্দর সড়ক দীর্ঘ যানজটে নাকাল মানুষ।

অনলাইন ডেস্কঃ
যানজট
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিন বাজারের সালেহপুর ব্রিজের সংস্কারের প্রভাবে টঙ্গী থেকে মহাখালী পর্যন্ত তীব্র যানজট হয়েছে। শুক্র ও শনিবার ওই সড়কের তিন ভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এ সড়কের গাড়িগুলো ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক দিয়ে চলাচল করেছে। এতেই বিপত্তি ঘটে। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এ সময় ১ ঘণ্টার দূরত্ব পাড়ি দিতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লেগেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে বসে থেকে নাকাল হয়েছেন ওই সড়কে চলাচলকারী হাজারো মানুষ।
এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিন বাজার এলাকার ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংস্কার কাজ চলছে। শুক্র ও শনিবার ব্রিজের জরুরি কিছু কাজের জন্য সড়কের সিংহভাগ অংশ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে গাড়িগুলো ঢাকা-ময়মনসিংহ রোড হয়ে আশুলিয়া দিয়ে চলাচল করেছে। ফলে ওই সড়কে গাড়ির চাপ বাড়ায় যানজট হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ (শনিবার) আমি আমিন বাজার এলাকা পরিদর্শন করেছি। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা আমাকে জানিয়েছেন আজ রাত (শনিবার) ব্রিজটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। এটা খুলে দিলে আগামীকাল (আজ) থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ গাড়ির চাপ কমবে। সেক্ষেত্রে ওই সড়কে যানজটের ধকলও কমে যাবে বলে আশা করছি।
জানা যায়, রাজধানীর বনানী থেকে উত্তরা-টঙ্গী পর্যন্ত তীব্র যানজটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। এ পথের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। কিন্তু, পরিকাঠামো আর পরিকল্পনার অভাবে পথচারী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। গত দুদিন ধরে এ পথে যানজট লেগেই আছে। মহাখালী থেকে বনানী-উত্তর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা।
আরও জানা যায়, মহাখালী থেকে টঙ্গী-গাজীপুর হয়ে চলাচলকারী দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের বেশ কয়েকজন যাত্রী ও চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে বেরোনোর সময় মহাখালী থেকে বনানী-উত্তরা হয়ে গাজীপুর কমপক্ষে ২০টি স্থানে যানজটে পড়তে হয়। উত্তরা বাইপাইল মহাসড়ক চলমান উন্নয়ন কাজের কারণে সরু হয়ে পড়েছে। এছাড়া রাস্তার দুই পাশে মাটি ভেঙে গর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি জমছে। বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত বিআরটিএর উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকার কারণেও সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ পথে যথাযথ বিকল্প পথ-লাইন তৈরির কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এবড়োখেবড়ো লাইনে চরম ঝুঁকি নিয়ে যান চলছে।
শনিবার দুপুরে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কজুড়ে তীব্র যানজট। যান চালকদের বক্তব্য, উত্তর-টঙ্গী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বেশ কয়েকদিন ধরে। এতে যানজটের অংশ যুক্ত বনানী থেকে মহাখালী পর্যন্ত। টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর রাস্তায় যাতে কোনো গাড়ি থেমে না থাকে, সেজন্য কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে বিশেষভাবে কাজ করতে দেখা গেছে।
মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও সিলেট এলাকায় বাস চলাচল করে। এ পথের যাত্রী ও বাসচালকদের ভাষ্য, কুড়িল বিশ্বরোড থেকেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানী থেকে বের কিংবা প্রবেশ ক্ষেত্রে একই অবস্থা। টঙ্গীর স্টেশন রোড থেকে চেরাগআলী, গাজীপুর, জয়দেবপুর চৌরাস্তা, জয়দেবপুর থেকে কোনাবাড়ি, সফিপুর, চান্দুরা, টাঙ্গাইল রুটের সাভারের জামগড়া, ফ্যান্টাসি কিংডম ও আশুলিয়া সড়কের বাইপাইল এবং সিলেট রুটে টঙ্গীর স্টেশন রোড থেকে মিরেরবাগ, নরসিংদীর পাঁচদোনায়ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
ঢাকা থেকে উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতকারী ৫৯টি রুটের সংযোগস্থল গাজীপুর। ঢাকা থেকে আশুলিয়া হয়ে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা চৌরাস্তা হয়ে উত্তরবঙ্গে যাত্রীবাহী গাড়ি যাতায়াত করে। উত্তরা এলাকায় উন্নয়ন কাজে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতায় যখন যানজট সৃষ্টি হয় তখন উভর প্রান্তে যানজট দীর্ঘ হয়। গাবতলী থেকে সাভার-নবীনগর হয়ে বিকেএসপি দিয়ে কালিয়াকৈরের চন্দ্রায় মিলিত হয় উত্তরবঙ্গের যানবাহন। এ পথেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যান চালকের কেউ কেউ বলছেন, সড়কে প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে বৃষ্টিও যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
যানজট প্রসঙ্গে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের পরিচালক মো. লিয়াকত আলী যুগান্তরকে বলেন, বিআরটির নির্মাণ কাজের কারণে যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেগুলো সংস্কার করে দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে কোনো সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেসবও সংস্কার করে দেওয়া হবে। তবে শুক্র ও শনিবারের যানজটের প্রধান কারণ হচ্ছে আমিন বাজারের সালেহপুর এলাকার ব্রিজটির সংস্কার কারণে সড়ক সিংহভাগ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সে জন্য এত যানজট হয়েছে। ওই ব্রিজটি খুলে দিয়ে যানজট নিরসন করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : ফয়সাল হাওলাদার।
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস ।। Mehendiganj Times. All rights reserved.