বিশেষ প্রতিনিধি ঃ ঝালকাঠিতে একাধিক ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে কিছুদিন সম্পর্কের পর আবার নতুন করে অন্য ছেলেকে পটানোর অভিযোগ ও তথ্য প্রমাণ মিলছে এক কিশোরীর বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ৫ জন প্রেমিকের মন রক্ষা করে চলছিলো প্রেম। হঠাৎ এক বিদ্রোহ প্রেমিকের কাণ্ডে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় প্রেমময় জীবন।
‘এই নশ্বর জীবনের মানে শুধু তোমাকেই চাওয়া’
প্রাক্তন প্রেমিকের বাচ্চার জন্য মিমির যে উপহার
বিয়ের প্রলোভনে কিশোরী ধর্ষণ, প্রেমিক আটক
এক বছরের প্রেম ও পারিবারিকভাবে বিবাহের প্রস্তাব চলাকালে একাধিক প্রেমিকের সম্পর্কে জড়িয়ে ধরা পড়ায় ঝালকাঠির এক স্বর্ণকিশোরীকে বহু প্রেমিকের প্রেমিকা নাসরিন আক্তার সারা তার সর্বশেষ প্রেমিকের নামে ঝালকাঠি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে ওই স্বর্ণকিশোরীকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ঝড় বইছে। আবার অনেকেই যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সবাইকে সাবধান করছে ‘ঝালকাঠিতে আরেক বরগুনার আয়শা সিদ্দিকির উত্থান, রিফাতের মত ধ্বংস হতে পারে আর একটি পরিবার’।
এবার আসি ‘আয়শা সিদ্দিক’ হয়ে ওঠা স্বর্ণকিশোরী নাসরিন আক্তার সারার প্রেমের নামে অর্থ হাতানোর গল্পে। কে এই নাসরিন আক্তার সারা, কী হয়েছিলো শহরের ফকিরবাড়ি এলাকার নাসরিন আক্তার সারার বোনের বাসায়? কেনই বা এই ছেলে তার সাজানো নাটকে পা বাড়ালো। যেখানে বছরখানেক প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিক সম্পর্কের দিকে এগোচ্ছিলো হঠাৎ কেন তার বিরুদ্ধে আনা হলো নির্যাতনের অভিযোগ? সকলেরই মনে এই প্রশ্ন।
জানা গেছে, প্রেমের নামে অর্থ হাতানোই ছিল নাসরিন আক্তার সারার পেশা। সাবেক দুই প্রেমের বিচ্ছেদ ঘটে অর্থ-বাণিজ্যের কারণে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে জুবায়ের আদনান নামে তার তৃতীয় প্রেমিকের পথ চলা শুরু হয়। দীর্ঘ এক বছরের প্রেম পৌঁছায় পারিবারিক সম্পর্কে। রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে ওঠা জুবায়ের আদনান বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত। গত ছয় বছর ধরে পড়াশোনার জন্য ঝালকাঠিতেই অবস্থান করছে। নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতায় ঝালকাঠি জেলায় সর্বজন পরিচিত এবং সবার প্রিয়পাত্র জুবায়ের এবং তার পিতা নলছিটি উপজেলার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম সামাজিক ব্যক্তিত্ব।
ঐ মাদ্রাসার শিক্ষক (জুবায়েরের পিতা) খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সারার পরিবারের চলাফেরা অনেকটা খোলামেলা ও উগ্র মানসিকতার এবং সামাজিক স্ট্যাটাসও সন্তোষজনক না হওয়ায় বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
উল্লেখ্য, সম্পর্কের শুরু থেকে সারার নিজের এবং পরিবারের সম্পর্কে বলা প্রতিটি কথা মিথ্যা ছিলো যা বিবাহের আলাপের সময় খোঁজ নিয়ে জুবায়েরের পরিবার জানতে পারে। আর এ সম্পর্কে গত দুই মাস ধরে অসংখ্যবার জানতে চাইলেও সারা বা তার পরিবারের কেউ সদুত্তর দেয়নি। উল্টো খারাপ ব্যবহার করেছে। বার বার জানতে চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় সারার পরিবার। পরে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক তার একমাত্র ছেলে জুবায়ের আদনানকে সারার পরিবার থেকে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে বলে।
অপরদিকে সারার বোন জুবায়ের আদনানকে কূট পরামর্শ দিয়ে তার (জুবায়ের) পরিবার থেকে আলাদা করে রাখে। বিভিন্ন সময় সারার বর্তমান প্রেমিক জুবায়েরকে তাদের বাসায় ডেকে নিয়ে শলা-পরামর্শ করে তাদের প্রেমকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য প্রস্তাব রাখে। পরিবারের সম্মতি এবং সকলের উপস্থিতিতে বিয়ে করবে জানিয়ে তাদের প্রস্তাবে সম্মতিও জানায় জুবায়ের।
প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরেই বিভিন্ন সময় সারা ও তার পরিবারের সাথে ওঠাবসায় জুবায়েরের ব্যাপক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় ঐ পরিবারের সাথে। আর এই ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরেই অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকায় জুবায়েরের কাছ থেকে ধার বাবদ কখনো পাঁচ হাজার কখনো দশ হাজার কখনো এর অধিক নগদ টাকা নিয়ে আসছিল সারা ও তার পরিবারটি।
ঘনিষ্ঠতা ও অর্থ লেনদেনের ব্যাপারটি সারার প্রাক্তন ও বর্তমান সব প্রেমিকের সাথেই ঘটে আসছে এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের কাজের নামে পার্কে ঘোড়া, সুগন্ধা বিষখালীতে নৌকা ভ্রমণ, ভিমরুল পেয়ারা বাগানসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতো। আর সেখানেও অর্থের যোগান ছিল জুবায়ের।
বাবার একমাত্র সন্তান পড়ালেখা ও সন্তানের হাত খরচ শিক্ষক পিতা জুবায়েরের মাসের শুরুতেই দিয়ে আসছে প্রতিনিয়ত। এদিকে পকেট ভর্তি সেই অর্থ ব্যয় হতো তার প্রেমিকা স্বর্ণকিশোরী নাসরিন আক্তার সারার স্বাদ-আহ্লাদ পূরণে।
এতকিছু করার পরেও নিজেদের মান অভিমান বা সামান্য ঝগড়াঝাঁটির সময়ে এই সম্পর্কটির পাশাপাশি অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পরে সারা। যখন জুবায়ের জানতে পারে তার পছন্দের পাত্রী অর্থাৎ প্রেমিকা অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে তখন প্রেমিকা পাগল জুবায়ের দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিষয়টা সে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলো না। সে একা একা কষ্ট পাচ্ছিলো। সারা আর তার পরিবারের সাথে ফেসবুকে, ফোনে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেও বার বার ব্যর্থ হয়েছে।
সার্বিক এই বিষয়গুলো নিয়ে সারা এবং তার পরিবারের সাথে কথা বলার জন্যই গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে সারার বোনের বাসায় যায় জুবায়ের। কথাবার্তার এক পর্যায়ে সারার বড় বোনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ছোটো বোনের সকল অন্যায়ের কথা অস্বীকার করে এবং রাগান্বিত হয়ে জুবায়েরকে চর থাপ্পড় মারেন।
এদিকে সারা একবছরের প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করে দাবী করে, জুবায়ের তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং তা প্রত্যাখ্যান করায় জুবায়ের তার উপরে হামলা করে। ঘটনার পরপর ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি হয় সারা। এ বিষয়ে সারা নিজেই বাদী হয়ে প্রেমিক জুবায়েরর বিরুদ্ধে ঝালকাঠি থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু তাহের মিয়া জানান, এ ঘটনায় সারা নামের কিশোরীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে মামলা রুজু করি। তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : ফয়সাল হাওলাদার।
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস ।। Mehendiganj Times. All rights reserved.