প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ৭, ২০২৬, ৫:১০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২০, ২০২১, ২:০৮ পি.এম
চট্টগ্রামে রাতভর বৃষ্টি দিনভর জলাবদ্ধতা।

অনলাইন ডেস্কঃ
চট্টগ্রামে শুক্রবার রাতভর হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। আর শনিবার দিনভর ছিল জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও দুপুরের মধ্যে পানি নেমে গেলেও নিচু এলাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি জমেছিল। সড়ক, বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কোথাও বাদ যায়নি। এতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হওয়া লোকজনকে পড়তে হয় সীমাহীন ভোগান্তিতে। বিভিন্ন স্থানে পানিতে যানবাহন আটকে যানজটের সৃষ্টি হয়। ছিল গণপরিবহণ সংকটও। একটি এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটে। তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। জানা গেছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। টানা বৃষ্টিতে নগরীর অনেক এলাকায় পানি জমে যায়। ষোলোশহর, মুরাদপুর, কাপাসগোলা, শুলকবহর, চকবাজার, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, মোহরা, চাকতাই, বাকলিয়া ডিসি রোড, আগ্রাবাদ কমার্স কলেজ এলাকা, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক, হালিশহর, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। এসব এলাকার মূল সড়ক ও অলি-গলিতে কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমরপানি ওঠে। পানিবন্দি হয়ে পড়েন নিচু এলাকার কয়েক লাখ মানুষ।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা শেখ ফরিদ আহমেদ যুগান্তরকে জানান, শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি এবং একইসঙ্গে বজ সহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হতে পারে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়, ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত মৌসুমি বায়ু বিস্তৃত রয়েছে। এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এতে চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।
চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মেইন গেট থেকে শরাফত উল্যাহ পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকার সড়কে পানি দুপুর পর্যন্ত ছিল। এ ছাড়া আবাসিক এলাকার অভ্যন্তরের বিভিন্ন সড়কে পানি ওঠার কারণে বাসিন্দারা বের হতে পারেননি। দিনভর পানিবন্দি থাকেন এলাকার মানুষ। বহদ্দারহাট এলাকায় একাধিক মার্কেট, অফিস, দোকানপাট ও অনেক বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করে। বহদ্দারহাট থেকে মুরাদপুর হয়ে ষোলোশহর দুই নম্বর গেট পর্যন্ত নগরীর প্রধান সড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ সময় যানবাহন বিকল্প পথে ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে সড়ক ছাড়িয়ে ফ্লাইওভারে যানজট দেখা দেয়।
দুই নম্বর গেট এলাকায় সকাল ৯টার দিকে আটকে থাকা পথচারী জসিম উদ্দিন জানান, কোনো গাড়ি নেই। রিকশাও চলছে না। মাঝেমধ্যে দু-একটি রিকশা-ভ্যান যাত্রী পার করছে। তিনি ওই ভ্যানের জন্যই অপেক্ষা করছেন। মুরাদপুর মোড়ে হেঁটে পানি ডিঙিয়ে রাস্তা পার হতে দেখা যায় অনেককে। এ মোড়ে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। স্থানীয়রা জানান, সড়কসংলগ্ন নালা ও খাল সংস্কারের কাজ চলছে। যত্রতত্র বালু ও বিভিন্ন ধরনের নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে। এ কারণে পানি নামতে পারে না।
হাঁটুপানিতে তলিয়ে থাকা নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলার শিশু ওয়ার্ড, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, জেনারেল ওয়ার্ড ও প্রশাসনিক কার্যালয় হাসপাতালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন ভবনে বহির্বিভাগ স্থানান্তর করা হয়েছে। শিশু ওয়ার্ডের রোগীদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ সময় রোগী ও স্বজনদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়। এর আগে ৬ জুন হাসপাতালটিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। সাধারণত বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে আগ্রাবাদ ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ট্রেজারার রেজাউল করিম আজাদ বলেন, ভোর থেকে হাসপাতালের নিচ তলায় হাঁটুপানি জমে যায়। এতে রোগী-স্বজনরা যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েন। তবে চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
পাহাড় ধস : রাতভর টানা বৃষ্টিতে সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর আকবরশাহ থানার ইস্পাহানি ১ নম্বর গেট এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘরগুলোর বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বাস করা বাসিন্দাদের নিরাপদ চলে যেতে মাইকিং করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : ফয়সাল হাওলাদার।
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস ।। Mehendiganj Times. All rights reserved.