শাহিন মাহমুদ
দেশের বিদ্যুৎবিহীন একমাত্র উপজেলা রাঙ্গাবলী। যে উপজেলায় বিদ্যুতের কোন রকমের সংযোগ নেই। উপজেলা হওয়ার আট বছর অতিবাহিত হলেও এখানকার দুই লাখ মানুষকে কাটাতে হয়েছে বিদ্যুৎবিহীন। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে এবার বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হতে যাচ্ছে এই উপজেলাটি। রাঙ্গাবালী উপজেলার ১০৭ গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য খুটির মাধ্যমে ৯৮২ কিলোমিটার ও সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ৯ কিলোমিটার লাইন টানতে হবে। বুধবার দুপুরে খুঁটি গেড়ে বিদ্যুৎ লাইনের শুভ উদ্ভোধন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমান মহিব।

উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাশফাকুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম মিয়া, এমপি মহিবের সহধর্মিনী ও কলাপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ ফাতিমা আক্তার রেখা, পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মনোহর কুমার বিশ্বাস, রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো.আলী আহম্মেদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো.দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান ও ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন।
জানাগেছে, পটুয়াখালী জেলার সাগর ও নদী বেষ্টিত একটি অবহেলীত উপজেলা রাঙ্গাবালী। উপজেলার বয়স আট বছর পেরিয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখনো নির্মিত হয়নি। যার ফলে এ জনপদের মানুষ দেশের অন্যসব এলাকার তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মহিব্বুর রহমান মহিব সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরে বিদ্যুৎ ও হাসাপাতাল নির্মাণের জন্য উদ্দ্যোগ গ্রহন করেন। এনিয়ে গনমাধ্যমেও অনেকবার সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে সংসদে বিদ্যুতের জন্য এমপি প্রস্তাব উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ দেয়ার জন্য আশ্বস্ত করেন। এপর ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেন। ইতোমধ্যে রাঙ্গাবালীর ৫টি ইউনিয়নে বিদ্যুতের খুঁটি পৌছে গেছে। উপজেলা সদরে খুঁটি গেড়ে বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্ভোধনের পরে সকল যায়গায় খুঁটি স্থাপন করা হবে। ভোলা থেকে পিলার ও সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে রাঙ্গাবালী সাবস্টেশনে সংযোগ দেয়া হবে। রাঙ্গাবালী উপজেলায় বিদ্যুৎ সাবস্টেশন থেকে উপজেলার চারটি ইউনিয়ন অর্থাৎ রাঙ্গাবালী সদর, ছোটবাইশদিয়া, বড়বাইশদিয়া ও মৌডুবীতে সংযোগ প্রদান করা হবে। এছাড়াও বাকি দুটি ইউনিয়নের মধ্যে চরমোন্তাজ ইউনিয়নে চরকাজল-চরবিশ্বাস থেকে সংযোগ দেয়া হবে, আর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে গলাচিপা উপজেলা থেকে সংযোগ দেয়া হবে। ২০২০ সালের মধ্যে পূর্ণঙ্গ কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছন পল্লী বিদ্যুৎ পর্তৃপক্ষ।
প্রকাশক ও সম্পাদক : ফয়সাল হাওলাদার।
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস ।। Mehendiganj Times. All rights reserved.